শীত আসছে। নরম রোদ্দুরে নিজেকে সেঁকে নেবার আহ্লাদী দিন। এই সব দিন গুলোতেই আলমারীর আগল খুলে বেরিয়ে আসত রং-বেরং শাড়ির দল। উঠোনের পাশাপাশি পড়া দু খানা ফোল্ডিং খাট জুড়ে তাদের বিছানো, রোদ্দুর খাওয়ানো, এবং তাদের ঘিরে হাজারো খোয়াব বুনতে বুনতে বুনতে...
... মায়ের বিয়ের টুকটুকে লাল বেনারসি র জরির কাজ হয়ে উঠত সোনার সুতোয় বোনা, আর বৌভাতের নিবিড় কালচে সবুজ বেনারসী খানা তো নিয্যস জড়োয়ায় মোড়া, তখন বুঝে না বুঝে লুকিয়ে লুকিয়ে ভাসিলি ইয়ানের চেঙ্গিস খান পড়বার শীত, তাতে বহুমূল্য রেশম বস্ত্রের কথা... দিব্য দেখতে পেতাম ওই চৌখুপী করা সাত রঙা পিওর সিল্ক খানা তাদের -ই গোত্তরের। একখানা রুপালী জরির কাজ বিস্কিট রঙ রোলেক্স বেনারসি ছিল, আমাদের সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ কারিগর তাতে সাত মাস রাত্তির জেগে রূপোর জরির আলপনা বুনে এনেছিল রাজকন্যের জন্মদিনে। কয়েকখানা তাঁত সিলক ছিল সেগুলো হত আসলি মসলিন। মনে মনে ভাঁজ করে পুরে ফেলতাম দেশলাই বাকসে, আর কড়ে আঙুলের আংটি গলে না বেরোলে সে মসলিনের তো দামই মিলবে না আমাদের রাজত্বে। এসব অমূল্য সম্পদ বোঝাই নৌ-বহর নিয়ে ঘুমহীন দুপুর ভোর আশ্চর্য সওদাগরী বেলা নিভলে ফিরত ভাঙা স্বপ্নের ঘাটে
... মা ডাকত। ছায়া পড়ছে। কাপড় গুলো ঘরে নিয়ে আয়। আবার অভ্যস্ত ভাঁজে রংচটা আলমারিতে থাক বন্দী হত আমাদের সাত রাজার ধন। অপেক্ষায় থাকতাম আর এক শীতের জাদু রোদ্দুর কবে এসে পড়বে আমাদের উঠোনে...
সেইসব শাড়ি মেলে দেবার, শীতদুপুর গুলো আজ কোন ঝরা পাতার দেশে ঘুমে বিভোর।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন