kristi'ssssss kheyal-khata
...বুকের মাঝের রোদ্দুর-ছায়া আঁক কেটে যায় ঝরা পাতায়...
শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭
সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৭
পাতাঝরার শীতকথা...
এক যে ছিল গুলঞ্চ গাছ। তার অষ্টপ্রহর ঘিরে থাকত ঘন সবুজ পাতার নিবিড় আলিঙ্গন। গ্রীষ্মের ফুটিফাটা রোদ্দুর, কালবৈশাখীর উন্মাদ ঝাপট, বর্ষার মুষল ধারা কিছুতেই পারত না সেই আলিঙ্গন শিথিল করতে। পাতা বলত এ আমার ভালোবাসা। তাই তো এমন আঁকড়ে থাকি। তাই তো সময়ে সময়ে ফুলের সাজে উৎসবের বাহার আমার শুধু তোমায় ঘিরে। আমার কেবল তুমি, তুমি আর তুমি...এমনি করেই গাছকে ঘিরে পাতার অশান্ত হুটোপুটিতে চলছিল বেশ।
একদিন গাছের মনে হল, পাতা কেন থাকবে আমায় ঘিরে। কেন এমন সময়ে অসময়ে তার ফুল ফোটানোর আবদার। কেন মানব আমি??? কেন???কেন??? কেন???
কড়া গলায় বললে হেঁকে..
শোন বাপু তোমার চালাকি আর খাটবে না। আমি হলেম গে গাছ। আর তুমি হলে কিনা পাতা। ছোঃ! আমি চলব আমার মর্জি মাফিক। ফুল ফোটাতে ইচ্ছে করলে ফোটাব, নতুবা নয়...!!! তোমার আবদারে তো নয়-ই।তোমাকে প্রশ্রয় দেওয়াই আমার ভুল হয়েছে। আমার ভালোমানুষির সুযোগে সমস্ত শাখা,প্রশাখা তুমি দখল করে বসে আছ।
পাতা ফেললে কেঁদে! বোঝাতে চাইলে ওগো না। তোমায় ভালোবাসি বলে ঘিরে থাকি! আড়াল করতে চাই বাইরের আঘাত থেকে।
গাছ আরো নির্মম কণ্ঠে বললে তোমার চোখের জলে আমি ভুলছি না, সব তোমার ছলনা। তুমি চাইলে আমি ফুল দিয়েছি। তুমি কি দিতে পারবে আমায়। পাতা রইলে চুপ করে। গাছ তার কাঠে কাঠে ঠকঠকিয়ে ব্যঙ্গ হেসে বললে ব্যস দৌড় শেষ!!
সেদিন থেকে পাতা আর ফুলফোটানোর আবদার করে না। তার হুটোপুটি নাচন-কোঁদন বন্ধ। গাছের ঘরে দোরে বেজায় শান্তি।
পাতা গাছকে জানতেই দেয় না,তার আজকাল বড্ড শীত করে। যেন তার হাড়ের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে এক হিমবাহ। সে অনুভব করে তার আলিঙ্গনপাশ শিথিল হচ্ছে দিনে দিনে। এভাবে চলতে চলতেই নিঃসাড়ে তার খসে যাবার পালা। পাতা ভয় পায় না। সেই চরম মুহুর্তের প্রহর গোনে, আর বিধাতার কাছে প্রার্থনা করে যেতে যেতে যেন একটা প্রশ্ন করতে পারে।
'এবার তুমি খুশি তো????'
আচ্ছা গুলঞ্চ সেদিন কি জবাব দেবে???
বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৬
শীতের শাড়ি মেলা দুপুর
শীত আসছে। নরম রোদ্দুরে নিজেকে সেঁকে নেবার আহ্লাদী দিন। এই সব দিন গুলোতেই আলমারীর আগল খুলে বেরিয়ে আসত রং-বেরং শাড়ির দল। উঠোনের পাশাপাশি পড়া দু খানা ফোল্ডিং খাট জুড়ে তাদের বিছানো, রোদ্দুর খাওয়ানো, এবং তাদের ঘিরে হাজারো খোয়াব বুনতে বুনতে বুনতে...
... মায়ের বিয়ের টুকটুকে লাল বেনারসি র জরির কাজ হয়ে উঠত সোনার সুতোয় বোনা, আর বৌভাতের নিবিড় কালচে সবুজ বেনারসী খানা তো নিয্যস জড়োয়ায় মোড়া, তখন বুঝে না বুঝে লুকিয়ে লুকিয়ে ভাসিলি ইয়ানের চেঙ্গিস খান পড়বার শীত, তাতে বহুমূল্য রেশম বস্ত্রের কথা... দিব্য দেখতে পেতাম ওই চৌখুপী করা সাত রঙা পিওর সিল্ক খানা তাদের -ই গোত্তরের। একখানা রুপালী জরির কাজ বিস্কিট রঙ রোলেক্স বেনারসি ছিল, আমাদের সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ কারিগর তাতে সাত মাস রাত্তির জেগে রূপোর জরির আলপনা বুনে এনেছিল রাজকন্যের জন্মদিনে। কয়েকখানা তাঁত সিলক ছিল সেগুলো হত আসলি মসলিন। মনে মনে ভাঁজ করে পুরে ফেলতাম দেশলাই বাকসে, আর কড়ে আঙুলের আংটি গলে না বেরোলে সে মসলিনের তো দামই মিলবে না আমাদের রাজত্বে। এসব অমূল্য সম্পদ বোঝাই নৌ-বহর নিয়ে ঘুমহীন দুপুর ভোর আশ্চর্য সওদাগরী বেলা নিভলে ফিরত ভাঙা স্বপ্নের ঘাটে
... মা ডাকত। ছায়া পড়ছে। কাপড় গুলো ঘরে নিয়ে আয়। আবার অভ্যস্ত ভাঁজে রংচটা আলমারিতে থাক বন্দী হত আমাদের সাত রাজার ধন। অপেক্ষায় থাকতাম আর এক শীতের জাদু রোদ্দুর কবে এসে পড়বে আমাদের উঠোনে...
সেইসব শাড়ি মেলে দেবার, শীতদুপুর গুলো আজ কোন ঝরা পাতার দেশে ঘুমে বিভোর।
রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৩
রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
ঝরাপাতার চিঠি...
এবার শীতের পালা শেষ, পাতা ঝরার দিন ফুরালো, এখন এলোমেলো বাতাসে নিরুদ্দেশ যাত্রার পালা। মন কেমন করা উষ্ণ দুপুর আবার হৃদয় জুড়ে ছড়িয়ে দেবে নরম ছোঁয়া টুকু। ধুসর ডালে ডালে কচি সবুজের উঁকিঝুকি ভরিয়ে দেবে রুক্ষঝুলি দিনের সংক্ষিপ্ত পুঁজি ফের বিস্তৃত হবে... নেমে আসবে ভালোলাগার-ভালোবাসার ঋতু... উদাস হাওয়ার কোনো পাগলি ভাসিয়ে দেবে তার না বলা কথার রাশ... ঠিকানাহীন ঝরাপাতার চিঠি ... হাজার অবুঝের ভিড় এড়িয়ে পৌঁছে যাবে তার পাগলের কাছে...
রবিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
এলোমেলো...
এই যে শিকড় ছাড়া এলোমেলো চলা হাওয়ার
তখনইদমকা বাতাস আমাকে ডাক দেয়... পা
বাড়াই বিপথে...