এক যে ছিল গুলঞ্চ গাছ। তার অষ্টপ্রহর ঘিরে থাকত ঘন সবুজ পাতার নিবিড় আলিঙ্গন। গ্রীষ্মের ফুটিফাটা রোদ্দুর, কালবৈশাখীর উন্মাদ ঝাপট, বর্ষার মুষল ধারা কিছুতেই পারত না সেই আলিঙ্গন শিথিল করতে। পাতা বলত এ আমার ভালোবাসা। তাই তো এমন আঁকড়ে থাকি। তাই তো সময়ে সময়ে ফুলের সাজে উৎসবের বাহার আমার শুধু তোমায় ঘিরে। আমার কেবল তুমি, তুমি আর তুমি...এমনি করেই গাছকে ঘিরে পাতার অশান্ত হুটোপুটিতে চলছিল বেশ।
একদিন গাছের মনে হল, পাতা কেন থাকবে আমায় ঘিরে। কেন এমন সময়ে অসময়ে তার ফুল ফোটানোর আবদার। কেন মানব আমি??? কেন???কেন??? কেন???
কড়া গলায় বললে হেঁকে..
শোন বাপু তোমার চালাকি আর খাটবে না। আমি হলেম গে গাছ। আর তুমি হলে কিনা পাতা। ছোঃ! আমি চলব আমার মর্জি মাফিক। ফুল ফোটাতে ইচ্ছে করলে ফোটাব, নতুবা নয়...!!! তোমার আবদারে তো নয়-ই।তোমাকে প্রশ্রয় দেওয়াই আমার ভুল হয়েছে। আমার ভালোমানুষির সুযোগে সমস্ত শাখা,প্রশাখা তুমি দখল করে বসে আছ।
পাতা ফেললে কেঁদে! বোঝাতে চাইলে ওগো না। তোমায় ভালোবাসি বলে ঘিরে থাকি! আড়াল করতে চাই বাইরের আঘাত থেকে।
গাছ আরো নির্মম কণ্ঠে বললে তোমার চোখের জলে আমি ভুলছি না, সব তোমার ছলনা। তুমি চাইলে আমি ফুল দিয়েছি। তুমি কি দিতে পারবে আমায়। পাতা রইলে চুপ করে। গাছ তার কাঠে কাঠে ঠকঠকিয়ে ব্যঙ্গ হেসে বললে ব্যস দৌড় শেষ!!
সেদিন থেকে পাতা আর ফুলফোটানোর আবদার করে না। তার হুটোপুটি নাচন-কোঁদন বন্ধ। গাছের ঘরে দোরে বেজায় শান্তি।
পাতা গাছকে জানতেই দেয় না,তার আজকাল বড্ড শীত করে। যেন তার হাড়ের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে এক হিমবাহ। সে অনুভব করে তার আলিঙ্গনপাশ শিথিল হচ্ছে দিনে দিনে। এভাবে চলতে চলতেই নিঃসাড়ে তার খসে যাবার পালা। পাতা ভয় পায় না। সেই চরম মুহুর্তের প্রহর গোনে, আর বিধাতার কাছে প্রার্থনা করে যেতে যেতে যেন একটা প্রশ্ন করতে পারে।
'এবার তুমি খুশি তো????'
আচ্ছা গুলঞ্চ সেদিন কি জবাব দেবে???