রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৩

রোজ ইচ্ছে করে কেড়ে নিতে / কিন্তু একটা দেওয়াল আড়াল করে রাখে ভাবনা কাজ/ তবুও সময়, মহীরূহ শিকড় ছড়ায়/এখন দেওয়ালে ফাটল/ ঠেকে যাওয়া পিঠ আর একটু চাপ দিলেই/যাবতীয় নিরুচ্চার/ধসে যাবে আগ্রাসী ধিক্কারে!”

রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

ঝরাপাতার চিঠি...


এবার শীতের পালা শেষ, পাতা ঝরার দিন ফুরালো, এখন এলোমেলো বাতাসে নিরুদ্দেশ যাত্রার পালা। মন কেমন করা উষ্ণ দুপুর আবার হৃদয় জুড়ে ছড়িয়ে দেবে নরম ছোঁয়া টুকু। ধুসর ডালে ডালে কচি সবুজের উঁকিঝুকি  ভরিয়ে দেবে রুক্ষঝুলি দিনের সংক্ষিপ্ত পুঁজি ফের বিস্তৃত হবে... নেমে আসবে ভালোলাগার-ভালোবাসার ঋতু... উদাস হাওয়ার কোনো পাগলি ভাসিয়ে দেবে তার না বলা কথার রাশ... ঠিকানাহীন ঝরাপাতার চিঠি ... হাজার অবুঝের ভিড় এড়িয়ে পৌঁছে যাবে তার পাগলের কাছে... 


রবিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

এলোমেলো...



এই যে শিকড় ছাড়া এলোমেলো চলা হাওয়ার 

ইশারায়, স্রোতের টানে... ছন্নছাড়া... একলা পথ 

কখনও মিশে যায় সদর পথের বুকে... হাজারের 

ভিড়ে হারায় আপন চিহ্ন খানি... তারপর আবার 

কখন হাট পেরিয়ে, সব বিকিকিনি পিছে ফেলে 

মেঠো পথের ধারে এসে থামা।... পল কয়েকের 

মেলামেশা, সুখ বোলানো দুখ ভোলানো মাতাল

হাসির ঢেউ... অকাজের হিল্লোল কূলের বুক ছুঁয়ে

থমকে দাঁড়াতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে... তখন আবার 

ভেসে চলা... ঠিকানাহীন প্রান্তরে...
   
   এই সব যাওয়া আসা ... একলা পাড়ি বড্ডো 

ভালোলাগে... কখনও কখনও মাটির বুক আঁকড়ে 

বেড়ে ওঠা নিশিন্ত মহীরুহের ভীড় বাসার তৃষ্ণা 

জাগায় ... দু চোখ খোঁজে খড়-কুটো... ঠিক 

তখনইদমকা বাতাস আমাকে ডাক দেয়... পা 

বাড়াই বিপথে...   

রবিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৩

ডানা ভাসানোর ডাক


রাত জাগা পাখি, জানি এখন বাইরে পারদ গভীর থেকে  আরও গভীরে নেমে চলেছে, তোমার খড়-কুটোর

বাসায় ফুলিয়ে রাখা পালকের গোছা তার তীক্ষ্ণ আঁচড় থেকে সাধ্য মত আড়াল করে রাখতে চাইছে উঁষ্ণ 

হৃদয়ের স্পর্শ খানি। ... এখন শীতল-শীতলতর ভুবনডাঙায় টিকে থাকবার জন্য ওই একান্ত ওম্‌ টুকুই যা

সম্বল। ইন্ধনের অভাবে আগুন জ্বলেনা বহু-বহুকাল। আমাদের মাঝখানে ভঙ্গিল পর্বতের-ই মতো মাথা 

তোলে এক তুষার চূড়া... তার নাম অপরিচয়?...অহমিকা? ভালো করে জানা হয় নি আজও! শুধু জানি 

আস্তে আস্তে তোমার আর আমার আকাশ খণ্ডিত হয়ে যাচ্ছে ... এখন  আমার দীর্ঘশ্বাস তোমাকে ছোঁয় না

আর! নির্মম  তুষারে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে... কিংবা কে জানে হয়তোবা  ফিরেও আসেনা আর। হয়তোবা

মানস সরোবরের অগম পারে তোমারও ... ... ... তাদের তো তবু অপেক্ষা ছিল, আমদের জীবন যে বড্ড - 

বড্ডই ছোট। তাই যদি ইচ্ছে জাগে তবে একবার, শুধু একটি বার এই সুখের বাসা ছেড়ে , হিম শাসিত 

রাত্রির বুকে নেমে দেখ... ধূ ধূ প্রান্তর কেমন ভরে উঠেছে, উপচে পড়ছে আনন্দধারায়... এক বার শীতের 

শাণিত নখ- দন্ত কে উপেক্ষা করে অবগাহন করি জোছ্‌নাধারায়... যুগান্তের শেষে হাতে হাত ধরে সুখমৃত

জীবন ফেলে আবার একবার ডানা ভাসাই দুঃখের দরিয়ায়... আসবে আমার সঙ্গে??? ???   

শুক্রবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৩

তোমার চিঠির আশায় একা বসে থাকা



এখনো কি জেগে আছ একলা পথিক? চিঠি তোমার পাইনি বহুকাল। পৌষ রাতের হিম বাতাসে 

ক্লান্ত যখন রাতপাহারার হাঁক। তখন গহন রাতের বুকে বাজতো তোমার ডাক... মন কেমনের 

গন্ধে মাখামাখি...  এখনো কি জেগে পথিক??? লিখছ নাকি চিঠি। ঠিকানাহীন চিঠি তোমার, না 

জানি কেমন করে,  জড়িয়ে যেত ছড়িয়ে যেত একলা উঠোন জুড়ে... নিশীথ স্বপ্নে তোমার শব্দ 

আঁকত ভোরের ছবি... ... ... চাঁদ ক্ষয়ে যায়, রাত বয়ে যায়... কোথায় তোমার চিঠি?...  

মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৩

নিঃসঙ্গতা


শীতের পাতার মত একের পর এক দিন ঝরে পড়ে আমার ডানা থেকে ... খেয়াল খাতা জুড়ে ছড়িয়ে 

যায়  উত্তুরে হাওয়ায় ভেসে আসা বাউণ্ডুলে ধুলোর রাশি...  একলা মাঠের কিনারে আমি একা বসে থাকি... 

দেখি... ওপারে কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের মতো গভীর আভিমান বুকে স্তিমিত সূর্য  হারিয়ে 

যায় সন্ধ্যার সেতু বেয়ে সর্বগ্রাসী অন্ধকারের দেশে...