অনেক আলো ঝলমল পথ পেরিয়ে ক্লান্ত দুটি চোখের সামনে তখন নিশ্চিন্ত গ্রামীণ আঁধারের হাতছানি।ধানের গন্ধ মাখা সড়ক এগিয়ে চলেছে শিব মন্দিরের গা ঘেঁষে, রুবিনার বাড়ির সামনে দিয়ে, হাটতলা পিছনে ফেলে, চিড়েকল ডাইনে রেখে,...দূরে...। ধারায় ঘেরা টিনের চালাঘরের পাশে দিয়ে ডাইনে ঘুরতেই অন্ধকারের নরম আঁচল।কোন পথবাতির রেখা এখনও তাকে ছিন্ন করেনি। শেষ শারদীয় বাতাসে হিমের শিরশিরে ছোঁয়া। দূরে স্টেশন ধারের পুজোমণ্ডপ থেকে ভেসে আসছে বোধনের ঢাকের বোল... ড্যাং ড্যাং ড্যাং, ড্যা ড্যাং ড্যা ড্যাং ... ... ...! আজ ষষ্ঠী!কচুরিপানায় ছাওয়া মজা খালের পারে, নুয়ে পড়া কাঁঠাল গাছেরনিচে, গুড়ি মেরে থাকা অন্ধকারের বুকে অগুন্তি জোনাকির নাচের আসর।আর একটু এগোতেই বাঁশঝোপের মাথায় একফালি চাঁদের উঁকিঝুঁকি... বহুযুগের ওপার থেকে ভেসে আসে ছেলেবেলায় বহুবার পড়া সেই কবিতা... কোনও দিন না দেখা সেই কাজলা দিদির জন্যে আবার মন কেমন করে ওঠে... এক স্বপ্নের মধ্যে পা চালিয়ে অন্যমনে ঘরে ফিরে আসা... মন বলে আমার আঁধার ভালো ... ... ...